নবযাত্রা প্রতিবেদক
নগরীর মাছের বাজারে চলছে আকাল। চলতি বছরের প্রথম থেকেই মাছের দাম ছিল চড়া। সেই দামের উপরে আরো কয়েক ধাপে বেড়েছে মাছের দাম। নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায় সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় আবারো বেড়েছে মাছের দাম।
নগরীর চকবাজার সিটি কর্পোরেশনের মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে প্রায় বেশিরভাগ দোকানই বন্ধ। অল্প কয়েকটা দোকান খোলা থাকলেও এ দোকানগুলোতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ। আবার সেই দোকানগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমানে নেই সামুদ্রিক ও দেশীয় মাছ।
মাছ ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে। তাই মাছের সরবরা কম। বাজারে এখন যে মাছগুলো আসতেছে এগুলো আগের মাছ। হিমাগারে বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এগুলোও বেশি দামে সরবরাহ করা হচ্ছে। তাই দাম বাড়তি। আবার চাষের মাছও আসছে অল্পপরিমানে। চাহিদা বেশি কিন্তু সরবরাহ কম তাই দামও বাড়তি।
এ বাজারে পাঙ্গাস বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়, জীবিত হলে ১৭০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ১৫০- ২০০ টাকায়, রুই ২৩০- ৩৫০ টাকায়, কাতল ২৫০- ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সামুদ্রিক মাছের মধ্যে অল্প কয়েক প্রজাতির মাছ বিক্রি হতে দেখা যায়। আকারে ছোট বাড়া বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়। সামুদ্রিক বাইলা প্রতি কেজি ২৮০- ৩০০ টাকায়, ছুরি মাছ ২৭০- ৩০০ টাকায়, সুরমা মাছ ২৮০- ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতা মো. আব্দুল হক বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ কি খাবো, সব কিছুরই দাম বাড়তি। আগে ৫০০ টাকার বাজার করলে ব্যাগ ভরে বাজার নিয়ে ঘরে যেতে পারতাম। আর এখন এক কেজি মাছ কিনে দুই কেজির যেকোনো কাঁচা তরকারি কিনলেই ৫০০ টাকা শেষ হয়ে যায়। আমাদের ৫ জনের পরিবারে ৫০০ টাকার তরকারি দুই দিনের বেশি যায় না। এভাবে চলছে আমরা অল্প আয়ের মানুষরা বেশিদিন নেই না খেয়ে মরতে হবে।
এদিকে একই অবস্থা মুরগি বাজারে। ঈদের আগে বেড়ে যাওয়া মুরগির দাম আর যেন কমার নাম নেই। উল্টো বাড়ছে দাম। ব্রয়লার মুরগি বাজার ও এলাকা ভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকায়। আবার লেয়ার ও সোনালী মুরগি সরবরাহ কমের অজুহাতে বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। এ দুই মুরগিও এলাকা ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩৩০ টাকায়।
চকবাজারের মুরগি ব্যবসায়ী বলেন, বাজারে দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের ব্রয়লার মুরগি পাওয়া যাচ্ছে না। পাওয়া যাচ্ছে আড়াই কেজি থেকে বেশি ওজনের মুরগি। কিন্তু চাহিদা বেশি আকারে ছোট মুরগির। তাই ব্রয়লার মুরগির দাম একটু বেশি। এছাড়া লেয়ার ও সোনালী মুরগির সরবরাহ কম তাই দাম বেশি। আবার মুরগির খাবারের দামও বেশি। মূলত এসব কারণে কমছে না মুরগির দাম।