পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত সাজবে কক্সবাজারের আদলে

বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি
জেলা প্রশাসকের আশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

সীতাকুণ্ড গুলিয়াখালী, বাঁশখালী ও আনোয়ারা পারকি সৈকতকে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণের গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসক। একই সঙ্গে নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে কক্সবাজার সৈকতের আদলে সাজানো ও পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।

গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভায় এসব নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান। নগরীর পতেঙ্গা, পারকি সমুদ্র সৈকতসহ চট্টগ্রাম জেলার সকল সমুদ্র সৈকতে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং পর্যটন উন্নয়নের লক্ষ্যে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, গুলিয়াখালী-বাঁশখালী ও আনোয়ারা সমুদ্র সৈকতের পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা পরিকল্পনাপত্র গ্রহণ করবেন। চট্টগ্রামের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর উন্নয়ন ও পর্যটকবান্ধব গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৭ সদস্যের উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। মাস্টারপ্ল্যানের আদলে চট্টগ্রামের পর্যটনকেন্দ্রগুলো সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে কক্সবাজারের আদলে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সমুদ্র সৈকতের ব্যবসা, আলোকচিত্র, সিসি ক্যামেরা, খাবারের মূল্য নির্ধারণ, ফুটওভার ব্রিজসহ নির্মাণ করা হবে। চাঁদাবাজি বন্ধ করে স্বচ্ছতা আনা হবে। এক মাসের মধ্যে এই পরিকল্পনা দৃশ্যমান করা হবে।  

৭ সদস্যের উপ-কমিটির প্রধান হলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাকিব হাসান। তিনি বলেন, পতেঙ্গ সমুদ্র সৈকতের কাছাকাছি অবস্থান করা রাইটার জাহাজগুলো দূরবর্তী স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হবে। চট্টগ্রামের পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে পর্যটনবান্ধব করে গড়ে তোলা হবে।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আকতার বলেন, বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত সকলের নজর কাড়ে। কিন্তু পর্যটকবান্ধব কোনো স্থাপনা গড়ে উঠেনি।
বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতের রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ পর্যটনবান্ধব সৈকত গড়ে তুলতে জলবায়ু কল্যাণ ট্রাস্টের প্রকল্প জমাদানের নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক।

অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার কবীর আহমদ বলেন, জেলা প্রশাসনের পর্যটনবান্ধব বাস চালু ভালো সাড়া পেয়েছে। মহামায়া লেক, কৈয়াচড়াসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের যোগাযোগব্যবস্থার সমস্যা রয়েছে। গুলিয়াখালীর বিচ, পতেঙ্গ সমুদ্র সৈকত ও টানেল দেখতে প্রচুর মানুষ এবং যানবাহনের ভিড় থাকে। এসব এলাকায় পর্যাপ্ত ফুটপাত রাখা হয়নি। এতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে পর্যটনকেন্দ্রগুলো। নিরাপত্তার ব্যবস্থাও বাড়াতে হবে। এছাড়াও ওয়াশ রুম, ড্রেস চেঞ্জ রুম ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। সমুদ্র সৈকতের কাছাকাছি মোটর গাড়ি, মোটর সাইকেল ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করে। ঘোড়াগুলো পরিস্কার রাখে না। দুর্গন্ধ ছড়ায়।

তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যায় পর্যাপ্ত বাতি না থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। হকার নিরাপত্তা। নিরাপত্তা রক্ষায় ট্যুরিস্ট পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো ও থাকার ব্যবস্থা করতে হবে।

কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি চৌধুরী ফরিদ বলেন, আনোয়ার পর্যটনকেন্দ্রের নির্মীয়মান বিভিন্ন স্থাপনার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, পর্যটনকেন্দ্রের ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় লবণাক্তমিশ্রিত বালু ব্যবহারসহ অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পে নয়-ছয় করাল অভিযোগ রয়েছে।

সীতাকু- ইউএনও কে এম রফিকুল ইসলাম বলেন, গুলিয়াখালী সৈকতের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সরু রাস্তা। দুই লেনের রাস্তাকে চার লেনে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জলবায়ু কল্যাণ ট্রাস্টের আধীনে সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কাঠের ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব দেন তিনি।

ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তৌহিদুল আরিফ বলেন, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে মা ও শিশু কর্নার নির্মাণ করা হয়েছে। আট সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। পার্কিং জোন ও পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা গেলে নিরাপত্তা জোরদার হবে।

সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা দিদারুল আলম, সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মোহাম্মদ জহির আহমদ, ৪১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছালেহ আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *