পাঁচ বছরে মাতৃ মৃত্যু হার কমেছে ১.৬ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
গত পাঁচ বছরে চট্টগ্রামে মাতৃমৃত্যু হার প্রতি হাজারে ১.৯ শতাংশ থেকে ১.৬ শতাংশ নেমে পর্যন্ত কমেছে। বর্তমানে মাতৃমৃত্যু হার প্রতি এক লাখে মাত্র ১৬৫ জন। যা ২০০৯-১০ সালে প্রতি এক লাখে ২৭০ জন ছিল। জানালেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক স্ত্রী রোগ ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডা. কামরুন নেসা রুনা।
এ সময় তিনি আরো বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে গর্ভকালীন মাতৃমৃত্যু হার দশমিক ৭ শতাংশে কমিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে। এক্ষেত্রে গর্ভকালীন যতœ অর্থাৎ ঋতু¯্রাব বন্ধ হওয়া থেকে শুরু করে ৯ মাস ৭ দিনের মধ্যবর্তী সময়ে গর্ভবতী মা ও তার গর্ভস্থ সন্তানের যতœ নিতে হবে। নিয়মিত পরীক্ষা এবং উপদেশ  মেনে চলতে হবে।
ডা. কামরুন নেছা রুনা আরো বলেন, ২০১৪-১৫ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে ভালো রকমের উন্নতি হয়েছে গর্ভকালীন মাতৃমৃত্যু হার। এটি সম্ভব হয়েছে উপজেলাভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানোর কারণে। এছাড়া এখন মানুষের মধ্যে গর্ভকালীন সচেতনতাও বেড়েছে।
ডা. কামরুন নেছা রুনা আরো বলেন, গর্ভকালীন মাতৃমৃত্যু হার শুন্যের কোটায় আনতে আমাদের উপজেলাগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা এখন যা আছে তার চেয়ে আরো বাড়াতে হবে। সমগ্র গর্ভকালীন সময়ে কমপক্ষে ৪ বার পরীক্ষা করা প্রয়োজন। পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভবতী মায়ের অবস্থা বুঝে তাকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে হবে। প্রয়োজনে তাকে রেফারেল হাসপাতালে পাঠাতে হবে সময়মতো। তাহলেই ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে গর্ভকালীন মাতৃমৃত্যু হার দশমিক ৭ শতাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
নগরীর মমতা মাতৃসদন ক্লিনিকের তথ্য মতে জানা যায়, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত এ হাসপাতালে ৪৬ হাজার ১৬৫ জন নারী সন্তান প্রসব করে। এরমধ্যে সন্তান প্রসবকালে একজন মায়েরও মৃত্যু হয়নি। তবে কোনো মায়ের প্রসবকালীন জটিলতায় দেখা দিলে এ আগেই তাদের রেফারেল সেবা প্রদানের জন্য হাসপাতালগুলোতে পাঠিয়ে দিই।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে দেখা যায়, এ সালে ফটিকছড়ি উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকে এক হাজার ৮৬৭ জন নারী সন্তান জন্মদানের জন্য ভর্তি হয়। এরমধ্যে নরমাল ডেলিভারি হয় এক হাজার ৭১৩ জনের। বাকি ১৩২ জন সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করেন ও ২২ জনকে রেফারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পটিয়ায় ভর্তি হয় ৫৩৪ জন। এরমধ্যে নরমাল ডেলিভারি হয় ৩৭৩ জনের ও সিজার হয় ৩৯ জন নারীর। বাকি ১২২ জন নারীকে রেফারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই দুই উপজেলায় মাতৃমৃত্যু হার ও নবজাতক মৃত্যুহার শুন্য। একই চিত্র দেখা যায় মিরসরাই, বাঁশখালী, লোহাগাড়া অন্য উপজেলাগুলোতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *