নাগালের বাইরে নিম্ন- নিম্ন মধ্যবিত্তের
ভরসা পেঁয়াজ, ডিম, ডাল, আলুর দাম।
মরিয়ম জাহান মুন্নী
‘ঘরে কিছু নেই! তাহলে এবেলা আলুভর্তা- ডাল কিংবা ডিমভাজা- ডাল দিয়ে চার সদস্যের খাবার চলে যেত। এরজন্য বড়জোড় গড়ে ৪৫- ৫০ টাকা খরচ হত’। কিন্তু বর্তমান যে বাজারদর সেই হিসেবে ডাল- আলুভর্তা কিংবা ডাল- ডিমভাজা চার সদস্যের পরিবারে একবেলা খাবারে খরচ হচ্ছে ১০০ টাকার বেশি।
এককথায় বলতে গেলে নি¤œ- নি¤œ মধ্যবিত্তের ভরসার এতিন খাবারও এখন নাগালের বাইরে। দিন দিন বেড়েই চলেছে এতিন পণ্যের দাম। বাজারে আলু এ যাবতকালের সর্বচ্চো রেকর্ড ভেঙে বিক্রি ভেঙেছে। আবার ডিমেও ভেঙেছে রেকর্ড। গত বছর এসময় একটি ডিম খুচরায় বিক্রি হয়েছিল ৯- ১০ টাকায়। সেই ডিম এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩ টাকায়। এছাড়া (মোটা, মাঝারি ও সরু) প্রতি কেজি মসুরডাল ৯৫- ১০০ টাকা থেকে দাম বেড়ে বর্তমান বাজারে তিন জাতের মসুর ডাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১৫- ১৪০ টাকায়। পাশাপাশি নাগালেই বাইরে রয়েছে দৈনন্দিন রান্নার প্রধান উপকরণ পেঁয়াজও।
গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৫৮- ৬০ টাকায়, প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়, পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০- ১২০ টাকায়। মোটা, মাঝারী জাতের মসুরডাল বিক্রি হচ্ছে ১৫০- ১২০ টাকায় এবং সরু জাতের মসুরডাল বিক্রি হচ্ছে ১৩০- ১৪০ টাকায়।
বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এক বছর আগে এসময় প্রতি কেজি মসুরডাল বিক্রি হয়েছিল ৯৫- ১০০ টাকায়। যা এখন ১১৫- ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মসুরডালে বেড়েছে ১৫- ৩০ টাকা। পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৫০- ৬০ টাকায়। এখন বিক্রি হচ্ছে ১১০- ১২০ টাকা। পেঁয়াজ কেজিতে বেড়েছে ৫০- ৬০ টাকা। প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছিল ১৩৫-১৪০ টাকায়। এখন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। ডজন প্রতি দাম বেড়েছে ২০- ২৫ টাকা। আলু বিক্রি হয়েছিল ২৫- ৩০ টাকায়। দেখা যায়, এক বছরের ব্যবধারে দ্বিগুণের বেশি দাম বেড়ে আলু বিক্রি হচ্ছে ৫৮- ৬০ টাকা। কেজিতে বেড়েছে ৩০- ৩৩ টাকা পর্যন্ত।
শফিকুল ইসলাম নামের এক ভোক্তা বলেন, করোনার পর থেকেই ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। প্রতিবছরই সংসার খরচ পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। কোনো মতেই সামাল দিতে পারছিনা। সংসার খরচ সামলাতে গত তিন বছর ধরে আলু, ডিম, মসুরডাল সংসারের গুরুত্বপূর্ণ ভোগ্যপণ্যে হয়ে উঠেছিল। সপ্তাহে দুইবার মাছ মাংস চললে তিনদিন চলতো সবজি বাকি দু’দিন চলতো আলু- ডাল কিংবা ডিম- ডাল। এভাবে মোটামুটি সংসার খরচ চালিয়ে নিচ্ছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় সেই খাবারেও হায়নার থাবা পড়েছে। অথচ নিম্ন, নিম্ন মধ্যবিত্তের জন্য হলেও এ তিন পণ্যের দাম নাগালের মধ্যে রাখা উচিৎ।
দুই নম্বর গেট কর্ণফুলী কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী লিয়াকত ফারবেজ বলেন, বড় বড় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ায়। তাদেরকে সরকারই সমর্থন করে। মাঝখানে আমরা খুচরা ব্যবসায়ীরা পড়ি বাজার তদারকি করা সরকারি সংস্থা এবং সাধারণ ক্রেতাদের রোশানলে। ম্যাজিস্ট্রেট এসে জরিমানা করে। কিন্তু আমরা খুচরা ব্যবসায়ীরা যে দামে কিনি তার থেকে না হয় সামান্য বেশি দাবে বিক্রি করি। দেখা যায়, সেই পণ্যটি দোকান পর্যন্ত আনতে যে খরচ পড়ে সে হিসেবে দামটা খুব বেশিও না।
এদিকে, নগরীর বৃহৎ পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলছেন, নানা কারণে দেশে বিভিন্ন পণ্যের আমদানি সংকট রয়েছে। বৃষ্টি বন্যার কারণেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশীয় ভোগ্যপণ্যগুলো। তাই সবকিছুর দাম উর্ধ্বমুখী। যদি আমদানি বাড়ে পেঁয়াজ, মসুর ডালের দাম কমবে এবং সরবরাহ বাড়লে আলু, ডিমেরও দাম কমবে।