চকবাজারের কামারপট্টিতে গত ১০ বছরে
প্রায় অর্ধশত কামার ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন।
শেষ মুহূর্তে দা, ছুরি
কেনার হিড়িক।
নবযাত্রা প্রতিবেদক
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন চকবাজারের কামারপট্টির কারিগররা। সারাবছর অলস সময় পার করলেও এখন ঈদকে ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে তাদের। তবে লোহার কাঁচামাল, কয়লার দাম বৃদ্ধির কারণে ব্যবসা মন্দা যাচ্ছে তাদের। যেকারণে চকবাজারের সেই ঐতিহ্যবাহি কামারপট্টির পরিসর বছর বছর ছোট হয়ে আসছে। গত ১০ বছরে প্রায় অর্ধশত কামার ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। তবে যারা এখনো এ ব্যবসার সাথে জড়িত তাদের অনরোধ পূর্ব পুরুষের এ পেশাকে টিকিয়ে রাখতে চান সরকারি সহযোগিতা।
জানা গেছে, গত সাত থেকে আট বছর আগেও এখানে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ধারালো হাতিয়ার তৈরির টুং টাং শব্দে মুখর থাকতো। কিন্তু এখন সেই ব্যস্ততা নেই। সেসময় প্রায় তিন শতাধিক মানুষ কাজ করতো এখানে। কিন্তু এখন সেই কারিগররা আর নেই। যারা এখনো আছেন তারাই মালিক আবার তারাই কারিগর।
বছর বছর কামার পেশায় মানুষ কমার কারণ জানতে চাইলে এখানে ব্যবসায়ীরা বলেন, এখন লোহার কাঁচামাল, কয়লার দাম, লবন পানি যেটা ব্যবহার করা হয় সেসবের দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ব্যবসায় আগের মত লাভ নেই। এছাড়া দিনদিন চীনের আধুনিক প্রযুক্তির চকচকে ধারালো পণ্যের চাহিদা বেড়েছে মানুষের মধ্যে। আধুনিকতায় হারিয়ে যাচ্ছে এতিহ্যবাহী এ শিল্প। ক্রমাগত লোকসানে পড়ে বর্তমানে এখানে কামারের সংখ্যা ২০ থেকে ৩০ জন মাত্র। এসব কারণেই ব্যবসা মন্দা। তবে ঈদকে ঘিরে কিছুটা ব্যস্ততা বেড়েছে এখানের ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
সরেজমিনে কামারপট্টি ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েক দিন ধরে ব্যস্ততা বেড়েছে চকবাজারের ঐতিহ্যবাহি এ কামারপট্টিতে। কামারপট্টির গোলিতে ঢুকতেই দা, ধামা, ছুরি, চাপাতি, বটি তৈরির টুং টাং শব্দ কানে ভেসে আসছে। আবার প্রায় সাতটি দোকানে থরে থরে সাজানো কোরবানীর পশু কাটার জন্য তৈরি করা চকচকে ধারালো এসব অস্ত্র। ক্রেতারও বেশ ভিড় ছিল। প্রায় প্রতিটি দোকানেই দা, ছুটি, ধামা কেনার দর কষাকষি চলছে। এসব পণ্যের দাম চড়া হওয়ায় অসন্তুষ দেখা যায় ক্রেতাদের মধ্যে। অভিযোগ করতেও শোনা যায় অনেক ক্রেতাকে। কিন্তু বিক্রেতারা বলেন ভিন্ন কথা। সীমিত লাভেই বিক্রি করছেন পণ্যে।
কামারপট্টির ব্যবসায়ী জয়রাম নন্দী বলেন, প্রতিটি দা’র মূল্য নেয়া হচ্ছে ২৫০-৬০০ টাকা পর্যন্ত। ছুরির মূল্য নেয়া হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। বড় ছুরি ৫০০-৭০০ টাকা। বটিতে নেওয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা।
তবে নতুন কেনার চেয়ে পুরাতন দা, ছুরি, ধামাসহ ধারালো অস্ত্র শান দেয়ার ক্রেতাই বেশি। শানের দামও অনেক বেড়েছে বলেন কাস্টমাররা।
আশরাফুল ইসলাম নামের এ কাস্টমার বলেন, পাঁচ বছর আগেও একটি ছুরি ধারাতে খরচ হত ৫০-৬০ টাকা। এখন সেই ছুরি ধারাতে ১৫০-২০০ টাকার লাগে। প্রায় তিনগুণ বেড়েছে দাম।
নজরুল ইসলাম নামের আরেক ক্রেতা বলেন, ছুরি কিনতে এসেছি। আগের ছুরিগুলো এখন বাদ দিয়েছিল। কিন্তু দাম অনেক বেশি। কয়েকটি ছুরি নতুন কিনবো এবং একটা দা শান দিতে হবে। গত বছরও দেখেছি দাম বেশি ছিল। এ বছর আবার দাম বেড়েছে। দেখা যায় প্রতিবছরই ধারাবাহিকভাবে এসব পণ্যের দাম বাড়ছে।
শুধু এখানেই নয়, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে নগরীর অলিগোলিতে বেড়েছে ভ্রাম্যমান শানদানিরা আনাগোনা। যারা পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘুরে হাক ঢাকছেন ধারালো পণ্য শান দিতে। এখানেও কম রাখছেন না দাম। বাসাবাড়ির বউরা নিজেরাই এসে শান দিয়ে নিতে দেখা যায় এসব ভ্রাম্যমান শানদানকারিদের থেকে।