আন্তর্জাতিক ডেস্ক | নবযাত্রা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে মিসর ও ইসরায়েলের সম্পর্ক ঘিরে। কায়রোর শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি, ইসরায়েল গোপনে মিসরে অবস্থানরত হামাস নেতাদের টার্গেট করার পরিকল্পনা করছে।
একজন মিসরীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, কায়রোতে হামাস নেতাদের হত্যার জন্য বহুদিন ধরে গোপন প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। অতীতে যুদ্ধবিরতি আলোচনার সময়ও এ ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছিল মিসর।
সম্প্রতি দোহায় হামাস নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের বিমান হামলার পর এ শঙ্কা আরও বেড়েছে। আবাসিক এলাকায় চালানো ওই হামলায় সাধারণ মানুষের হতাহতের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, দেশের ভেতরে বা বাইরে যেখানেই হোক, হামাসের নেতাদের টার্গেট করা হবে। এর জবাবে মিসরের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, তাদের ভূখণ্ডে এ ধরনের হামলা হলে সেটিকে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন ও সরাসরি ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
যদিও কায়রোতে হামাস নেতাদের উপস্থিতি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি মিসর, তবে নিরাপত্তা সূত্র বলছে, গাজায় যুদ্ধ শুরুর আগেই কয়েকজন শীর্ষ নেতা মিসরে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের পরিচয় ও অবস্থান গোপন রাখা হয়েছে।
এদিকে, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মিসর আগেই গাজা লাগোয়া এলাকায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে। সেনাবাহিনীর দাবি, সিনাই উপদ্বীপে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকায় অনুমতি ছাড়া কোনও বিমান প্রবেশ করলে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত হবে।
এক আঞ্চলিক বিশ্লেষক মনে করছেন, বিষয়টি শুধু হামাসকে কেন্দ্র করে নয়; বরং এটি কায়রোর মর্যাদার প্রশ্ন। মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে হামাসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় মিসর তাদের প্রতি আস্থাশীল নয়। তবে কায়রোর মাটিতে হত্যাকাণ্ড ঘটলে তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিসরের অবস্থানকে দুর্বল করবে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রথম আরব দেশ হিসেবে ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করেছিল মিসর। তবুও জনগণের বড় অংশ বরাবরই ইসরায়েলকে দখলদার শক্তি হিসেবে দেখে আসছে। বর্তমান পরিস্থিতি সেই সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।