শিল্পকলায় প্রথম মঞ্চস্থ দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের নাটক ‘শাহজাহান’।

নবযাত্রা প্রতিবেদক

ঐতিহাসিক নৃশংসতাররুপ নাটক ‘শাহজাহান’

সম্রাট শাহজাহানের বার্ধ্যকের সুযোগে তার পুত্রদের মধ্যে সিংহাসন দখলের জন্য শক্তি পরীক্ষা ও আত্মরক্ষার সংগ্রাম শুরু হয়। বাবার অসুস্থতা আরো উষ্কে দেয় সিংহাসন দখলের লোভ। পুত্রদের মধ্যে শুরু হয় বিবেদ, নৃশংসতা আর কুটকৌশল। পুত্রদ্বারা সম্রাট বন্দী হতে হয় আগ্রার দূর্গে। ১৭ দশকের শেষার্ধে ভারত সিংহাসন ঘীরে মোগল সম্রাজ্যে যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের জাল ও ভ্রাতৃঘাতি সংগ্রামের রক্তাক্ত অধ্যায় রচিত হয়েছিল দ্বিজেন্দ্র লাল রায় তাঁর ‘শাহজাহান’ নাট্যকাহিনীতে তারই জীবন্ত রূপ দিয়েছেন। এমনই একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে নাটক ‘শাহজাহান’।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে প্রথমবারের মত মঞ্চস্থ হয়েছে দ্বিজেন্দ্র লাল রায়ের চিরায়ত বাংলা নাটক ‘শাহজাহান’। নাটকটি নিয়ে শিল্পকলায় দু’দিনের নাট্যৎসবের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবং বাস্তবায়ন করেছে জেলা শিল্পকলা একাডেমি। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় নিয়ে নাটকের মূল কাঠামোকে ঠিক রেখে সম্পাদনার মাধ্যমে মঞ্চায়ন করা হয়েছে নাটকটি।
শুধু ইতিহাসের বিক্ষোভই নয়, মানব হৃদয়ের সুখ-দুঃখ-মিলন-বিরহের নানা উত্থান পতনের মানবিক অনুভূতির বিচিত্র প্রকাশ ঘটেছে এ নাটকে। বিশেষ করে যুগের ইতিহাস হওয়া সত্ত্বেও ধ্বনিত হয়েছে চিরন্তন মানব হৃদয়ের বাণী। ঐতিহাসিক এ নাটকের মাধম্যেই বর্তমান সময়ে ক্ষমতার লোভে চলমান রাজনীতির খাপার দিক ফুটে উঠেছে। যেখানে ক্ষমতার লোভে প্রতিনিয়ত চলে মারামারি হানানানি।
ইতিহান নির্ভর এ নাটক দেখতে শিল্পকলার অডিটরিয়াম হলে ভীড় করেন দুই শতার্ধিক দর্শক। সবার জায়গা ছিল না হলে।
পরিবার নিয়ে নাটকটি দেখতে শিল্পকলায় আছেন আরমান চৌধুরী ও তার স্ত্রী পলি চৌধুরী। তারা বলেন, মঞ্চ নাটক দেখতে খুব পছন্দ করি। কিন্তু এখন আর আগের মত ভালো নাটক পাওয়া যায় না। কিন্তু ফেসবুকে যখন নাটকটি দেখেছি মিস করতে চাইনি। তাই দুইশ’ টাকা দিয়ে দুইটি টিকেট কেটে আমি আর আমার স্ত্রী নাটকটি দেখতে এসেছি। এমন ইতিহান নির্ভর নাটক এখন পাওয়া যায় না। আমাদের মত দর্শকদের চাহিদা থাকবে এমন ইতিহান নির্ভর নাটক যেন আরো আসে।
দ্বিজেন্দ্র লাল রায় রচিত, কাজল সেন সম্পাদনা এবং মোসলেম উদ্দিন সিকদারের নির্দেশিত নাটকে অভিনয় করেছেন অভিনয় শিল্পী আবদুল হাদী, মুহাম্মদ শাহ আলম, গৌতম চৌধুরী, মো. শামসুল কবির লিটন, তৌহিদ হাসান ইকবাল, নাজিম উদ্দিন মামুন, সিরাজাম মুনিরা স্বর্ণা, মো. পারভেজ, সুজিত দাশ বারী, শেখ আনিস মঞ্জুর, শাহীন চৌধুরী, বিটু ভৌমিক, রাহমা খাতুন লুনা, রেহেনা কবির, বিকিরণ বড়ুয়া, মো. রেজাউল করিম আলমগীর, মুরাদ হাসান, আতিকুর রহমান, মু. নুহাশ আলম, ফাহিম রায়হান, রাজদ্বীপ চৌধুরী, সালমান জাহিদ, মামুন খান রাহিসহ অন্যান্যরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *