নজরুল ইসলাম ভুঁইয়া
এক অক্ষরের একটি শব্দ
অতি ছোট্ট শব্দ মা
শুনহ্ মানুষ ভাই
মহান সৃষ্টিকর্তার
সুন্দর এই ভুবনে
মায়ের চেয়ে মধুর শব্দ
আর কিছু নাই।
মা আমার জন্মদাত্রী
লালন-পালন কারী
মা আমার চোখের মণি
ভালো করে জানি।
যখন জন্ম নিলাম
কত অসহায় আমি ছিলাম
কান্না ছিল তখন
আমার নিত্য সাথী।
না পারিতাম দাঁড়াতে
না পারিতাম হাঁটতে
কইতে না পারিতাম কোন কথা
শুধু চাহনি ফেলে তাকিয়ে থাকতাম হেথা
এই দেখে মা আমার
চুমু খেয়ে বারবার
আমায় তুলতেন বুকে।
ছোটবেলায় দিনে রাতে মাকে
আমি কতই না কষ্ট দিই
তাতে মায়ের কোন দুঃখ নাই।
কত না বিছানা-কাপড় নষ্ট করি
তার হিসেব কোন নাই,
খুশি মনেই দিনে-রাতে মা
আমায় পরিষ্কার করে নেয়
নতুন কাপড় পরিয়ে দেয়
আমার মায়ের কোন অভিমান নাই।
ছোট্ট আমি হাঁটতে পারি নাকো
মা কোলে নিয়ে
সব কাজ করে নেয়,
আমায় কোন অবহেলা করে নাতো।
হাতে ধরে এদিক ওদিক
ঘুরতে নিয়ে যায়
জুড়ায় মন-প্রাণ
চাঁদ দেখিয়ে আমায় বলে
চাঁদের আলো নিয়ে আয়।
আমার সোনা পাখি জান।
ছোট্ট আমি পড়তে পারি নাকো
মুখে মুখে পড়তে শিখায়
মুখে আমার ভাষা ফুটায়
মায়ের ভাষাকে
ভালোবাসতে শিখায়
আমি এসব ভুলতে পারি নাতো
মা যে আমার ত্রিভুবনের আলো
মাকে কি ভুলতে পারি?
কখনো মাকে ভুলতে পারি নাগো।
ছোট্ট আমি লিখতে পারি নাকো
মা যত্ন নিয়ে হাত বুলিয়ে
লিখতে শিখায় কত
এখন আমি পড়তে পারি,
লিখতে পারি শত।
মায়ের মুখের হাসি দেখে
ভালোই লাগে বেশ
মাকে আমি ভালোবাসি
এই ভালোবাসার নাই কোন শেষ।
এবার স্কুলে ভর্তি করে
হাতে করে নিয়ে যায়
ছুটি শেষে আবার
নিয়ে আসে হাতে করে।
বাসায় এসে হাত-মুখ ধুয়ে দিয়ে
আদরে কোলে তুলে মা
আমায় শুধান, কি খাবি রে?
খাবার তৈরি করে
কি আদরে দেয় মুখে পুরে
আমি খাই সে তো মহাসুখে
পড়াশোনার ক্ষনে
খুলে বসি বই, খাতা, পেন্সিল নিয়ে
মা শুধায় আমারে
আজ লেখা হলো কতটুকু,
পড়া হলো কয় পাতারে?
ভালো কিছু শুনে মা
ভালো কথা বলে
অন্য ঘরে গিয়ে
শুধুই আমার নাম করে।
ওরে আমার নজরুল
সোনা মানিক হীরের ফুল
ক্লাসে হয় নাম্বার ওয়ান,
আমার কলিজার ধন
মনে প্রাণে সারাক্ষণ
আমার বুক ভরান।
এভাবে কত যন্ত্রণা সয়ে
শত সহস্র দোয়া-মন্ত্র পড়ে
আমায় ধরিয়া বুকে
গড়ে তুলেছে মা
কত বড় করে।
কত বিরক্ত করি আরও উৎপাত
কত আবদার করি দিন রাত,
হাসি মুখে আমার মা
সব সয়ে যান।
যখন আমি অসুস্থ থাকি
মা সেবা করেন দিবারাত্রি
হঠাৎ মধ্যরাতে ঘুম থেকে জেগে উঠে
দেখি মা আমার পাশে জেগে আছে,
দুচোখ তাহার ভাসছে চোখের জলে
মাথার পাশে বালতি ভর্তি পানি নিয়ে বসে
আলতো করে মাথায় ঢালে।
ক্ষনে ক্ষনে কপালে হাত দিয়ে
মাপছে আমার জ্বরের কি হোল
আমায় জিগায় বাবু সোনা
এখন কেমন লাগছে বল।
আমার সুস্থ হওয়ার লাগি
কত আল্লাহ, পীরে মাঙ্গে
কত মানত করে।
কত মসজিদ মাদ্রাসা মাঝারে
ভক্তিভরে দান খররাত করে।
শত কষ্ট করে আমার
জীবন দিলো গড়ে।
আমিও অনেক ভালোবাসি মা তোমায়
মুখ ফুটে বলতে পারিনি এখনও
স্কুল কলেজে থাকতে
টিফিন খাওয়ার ছলে
পয়সা নিতাম না কখনও
তাই আমি টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে
তোমার জন্য কিছু আনতে পারিনি তখনও।
আমি কতটুকু ভালোবাসি মা’কে
বলতে পারিনি এখনও
জীবনের চাইতে বেশি ভালোবাসি
প্রয়োজনে জীবন দিয়ে দিতে পারি প্রমাণও
তবুও মুখ ফুটে মা,
তোমাকে আমি ভালোবাসি
এই কথাটি বলতে পারছি না কখনও।
মাগো কতটুকু ভালোবাসি তোমাকে
আমি কেমন করে তা বলি, বল-
তুমি আমার চোখের জল
দিনরাত টলমল কর
তুমি আমার চোখের পাপড়ি
সারাদিন ক্ষনে ক্ষনে পর।
তুমি আমার বিশাল খালি মাঠ
তাতে ছড়াছড়ি করে খেলি
তুমি আমার খাল-বিল-পুকুর
তাতে দিনরাত সাঁতার কাটি।
আমি যেখানে দেখি যাকে
তোমার মতন লাগে তাকে
তোমার এত আদর সোহাগ
আর কোথাও নাই।
আমি দেখি যখন তোমার মুখ
শেষ হয়ে যায় আমার সব দুঃখ,
তোমার কোলেতে শুয়ে আমার
জুড়ায় মন-প্রাণ,
সকল যন্ত্রণা ভুলে
আদর সোহাগ দিয়ে
মা আমার বুক ভরান।
তারিখঃ শনিবার, ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ইং।
১৪ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ।
১৪ই রজব, ১৪৪২ হিজরী।