জেন্ডার বৈষম্যহীন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে নারীর প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে

নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পথে পুরুষের
অবদান আছে। না হয় নারীরা এতটা দূর
আসতে পারতো না।-বিভাগীয় কমিশনার
মো. তোফায়েল ইসলাম

নারী হচ্ছে রিপ্রোডাক্টিভ। তাই পুরুষের
চেয়ে নারীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দেয় দরকার।

নিজস্ব প্রতিবেদক


নারীরা এক সাথে দশ হাতে কাজ করার ক্ষমতা রাখে যা একজন পুরুষ পারেনা। তবুও নারীরা পিছিয়ে আছে কারণ এখনো বাংলাদেশের নারীদের কাজের অর্থমূল্য দেয়া হয়না। অর্থমূল্য দেয়া হলে নারীরা জিডিপিতে পুরুষের চেয়ে বেশি অবদান রাখতো। তবে জেন্ডারভিত্তিক সমতায় বাংলাদেশ এখন অনেকটা এগিয়ে আছে। যেকারণে বিশ্বের জেন্ডারভিত্তিক সমতায় টানা নবমবারের মত বাংলাদেশ এখনো শীর্ষে অবস্থান করছে। এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একনিষ্ঠ উদ্যোগের কারণে। ২০৪১ সালের মধ্যে নারীর ক্ষমতায়নে জেন্ডার বৈষম্যহীন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে নারীদের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দাঁড়াতে হবে পুরুষদেরও।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) হলে চট্টগ্রামের বিভাগীয় পর্যায়ে ২০২২ সালের নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমা মোবারেক এসব কথা বলেন।


তিনি বলেন, দেশ স্বাধীনের পর থেকে বঙ্গবন্ধু নারীদের অর্থনৈতিক ও ক্ষমতায়নে কাজ করেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীদের উন্নয়নে অনেকগুলো উদ্যোগ নেন। যেকারণে এখন নারীরা প্রশাসন থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজ করছেন। নারীদের কর্মক্ষেত্রে সোভন কাজের পরিধি তৈরি করে দিতে হবে। তবে নারী-পুরুষে সমতা আনতে হলে কিছু ক্ষেত্রে নারীদের কর্মের জায়গায় পুরুষের চেয়ে সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দিতে হবে। কারণ নারী হচ্ছে রিপ্রোডাক্টিভ। কর্মের পাশাপাশি সন্তান লালনপালনের জন্য কর্মক্ষেত্রে ডে কেয়ারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। নারীদের এসব বিষয় গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে। সরকারি পর্যায়ে সারাদেশে কিছু ডে কেয়ারের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সেগুলো শহর পর্যায়ে এবং যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। তবে আমাগীতে গ্রামাঞ্চলে উপজেলাভিত্তিক ডে কেয়ারের উদ্যোগ সরকার নিবেন বলে আশা করছি।


চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যুগ্মসচিব ও জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ কর্মসূচি পরিচালক সালেহা বিনতে সিরাজ, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পরিচালক (যুগ্মসচিব) জাকিয়া আফরোজ, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি নুরে আলম মিনা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কেয়া খান ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মাধবী বডুয়া।


চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলায় পাঁচ ক্যাটাগরিতে ৫৪ জন নারী জয়িতা নির্বাচিত হয়েছে। এরমধ্যে শ্রেষ্ঠ জয়িতা হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সম্মাননা পেয়েছেন পাঁচ জয়িতা। বিভাগের শ্রেষ্ঠ পাঁচ জয়িতার মধ্যে চাঁন্দপুর থেকে ‘সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায়’ শ্রেষ্ঠ হয়েছেনে ড. রওশনআরা বেগম এবং একই জেলা থেকে ‘সফল জননী’ ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ জয়িতা হয়েছেন আমেনা বেগম। নোয়াখালী জেলা থেকে ‘শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী’ ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন মমতাজ বেগম। কক্সবাজার জেলা থেকে ‘নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করে’ ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন সেনোয়ারা আক্তার এবং কুমিল্ল জেলা থেকে ‘অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী’ ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন লাভলী আক্তার।
এছাড়া ‘অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী’ ক্যাটাগরিতে বিভাগের ১১ জেলায় ১১ জন নারী জয়িতা নির্বাচিত হয়েছে। ‘নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করা’ ক্যাটাগরিতে ১১জন নারী জয়িতা নির্বাচিত হয়েছে। ‘শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী’ ক্যাটাগরিতে ১১ জন নির্বাচিত হয়েছে। ‘সফল জননী’ ক্যাটাগরিতে বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ১০ জন নির্বাচিত হয়েছে এবং ‘সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান’ ক্যাটাগরিতে ১০ জন জয়িতা জেলা পর্যায় নির্বাচিত হয়েছেন।


এসময় বিভাগীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ পাঁচ জয়িতা এবং জেলা পর্যায়ের ৪৯ জয়িতাকে উত্তরীয় পড়িয়ে বরণ করেন অতিথিরা। তাদের হাতে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়। এছাড়া শ্রেষ্ঠ পাঁচ জয়িতাকে ২৫ হাজার টাকার চেক এবং জেলা পর্যায়ে নির্বাচিতদের পাঁচ হাজার টাকার চেক তুলে দেয়া হয়।
অতিথিরা বলেন, নারীদের উন্নয়নে সরকার অনেক উদ্যোগ নিয়েছে। নারীরা এখন রাজনৈতিকভাবেও পুরুষের সাথে সমানতালে নির্বাচন করে নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসছেন। সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তর করতে প্রধানমন্ত্রীর নেয়া অনেকগুলো উদ্যোগের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নারী ক্ষমতায়ন এবং নারীর উন্নয়ন। একসময় শুধু বাবার নামে সন্তান পরিচিত হত কিন্তু এখন মায়ের নামও বাধ্যতামূল করা হয়েছে। নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পথে পুরুষের অবদান আছে। না হয় নারীরা এতটা দূর আসতে পারতো না। তাই বলা চলে সমাজ অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *