নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা নেই: এনসিপির অভিযোগ নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের আগেই কমিশন গঠনের সমালোচনা

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন।

লিখিত বক্তব্যে আখতার হোসেন বলেন, “বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে অবৈধ ও ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের প্রণীত ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন ২০২২’-এর ভিত্তিতে। সেই সময় ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দল এ আইন প্রত্যাখ্যান করেছিল। আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের কোনো প্রস্তাব বাস্তবায়নের আগেই কমিশন গঠন করা হয়েছে, যা কমিশনের নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।”

তিনি আরও বলেন, “সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচন থেকে বিরত রাখার প্রস্তাবও বিদ্যমান কমিশন বাতিল করেছে। ফলে তাদের ওপর আস্থা রাখা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।”

২০২০ সালের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, ”সে সময়ের অবৈধ নির্বাচন ঘিরে বর্তমান রাজনৈতিক জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে, যার জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকাই দায়ী। ‘ইশরাক হোসেন বনাম শেখ ফজলে নূর তাপস গং’ মামলায় নির্বাচন কমিশন প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে একতরফা রায়ের পথ সুগম করেছে। এমনকি উচ্চ আদালতে আপিল না করে, তারা মামলার বাদীপক্ষকে বিশেষ সুবিধা দিয়েছে বলেও আমাদের ধারণা।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন,“মামলার রায় ঘোষণার আগেই গত ১৯ আগস্ট প্রশাসক নিয়োগ করা হয়, যা পুরো মামলাটিকে অর্থহীন করে তোলে। রায় ঘোষণার পর আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের অপেক্ষা না করেই রাতারাতি গেজেট প্রকাশ করে কমিশন তার পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ দিয়েছে।”

আখতার হোসেন বলেন,“বর্তমানে জনপ্রতিনিধি না থাকায় নাগরিক সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ‘ইশরাক বনাম তাপস’ মামলাকে নজির হিসেবে ব্যবহার করে সারাদেশে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন অনেক প্রার্থী। এই সংকট নিরসনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনই একমাত্র সমাধান, কিন্তু বর্তমান পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন কমিশনের পক্ষে তা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা সম্ভব নয়।”

জাতীয় নাগরিক পার্টি নির্বাচন ব্যবস্থায় শুদ্ধতা ও কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *