নববর্ষে ঐক্যের ডাক: দেশ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজের আহ্বান চসিক মেয়রের

নবযাত্রা প্রতিবেদক

বাংলা নববর্ষের প্রাক্কালে জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে দেশ পুনর্গঠনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে এখন প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

সোমবার বিকেলে নগরের ঐতিহাসিক সিআরবি শিরীষতলায় বর্ষবিদায় ও নববর্ষ বরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নববর্ষ উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু সুফিয়ানসহ বিভিন্ন বিশিষ্টজন।

মেয়র বলেন, পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করার এই সময়টিতে আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণে আরও যত্নবান হতে হবে। তিনি গাছের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, গাছ মানুষের জীবনের জন্য অপরিহার্য—এগুলো আমাদের অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।

তিনি উল্লেখ করেন, সিআরবি এলাকার শতবর্ষী শিরীষগাছ শুধু একটি বৃক্ষ নয়, এটি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যের অংশ। এই স্থান রক্ষায় নগরবাসীর পূর্বের আন্দোলনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণে নাগরিকদের সচেতনতা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

করোনাকালের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মেয়র বলেন, তখন অক্সিজেনের সংকটে মানুষের ভোগান্তি ছিল চরমে, অথচ প্রকৃতি আমাদের প্রতিনিয়ত বিনামূল্যে এই জীবনদায়ী উপাদান দিয়ে যাচ্ছে। তাই পরিবেশ রক্ষা করা সবার নৈতিক দায়িত্ব।

নগরবাসীর উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, সিআরবি এলাকা রেলওয়ের অধীনে থাকলেও এর সুরক্ষা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, বাংলা বর্ষপঞ্জি, ঋতুচক্র ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে তাদের সচেতন করে তুলতে হবে। নিজেদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে সংযোগ না থাকলে প্রকৃত দেশপ্রেম গড়ে ওঠে না।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল করিম, আবুল হাশেম বক্কর, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।

এসময় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা, যা নববর্ষের উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *