নানা সমস্যায় ঝর্ঝরিত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা

মরিয়ম জাহান মুন্নী

ব্যবসা পরিচালনা করতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রায় আট ধরণের সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়। উল্লেখ্য সমস্যাগুলো হলো, উ”চহারে ব্যাংক ঋণ প্রদান, আমদানি খরচ বৃদ্ধি, দেশীয় উৎপাদিত পণ্যের রপ্তানি কম, ভ্যাট-ট্যাক্স বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, পণ্য উৎপাদনের কাঁচামালের চড়া দাম, পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি ও মার্কিন ডলার সংকটের কারণে ব্যবসায়ীদের নানারকম সমস্যায় ব্যবসা পরিচালনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে । এসব সমস্যা সমাধানে কি করণী এ নিয়ে কথা হয় কয়েকজন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তা সাথে। তাঁরা বলেন, বাংলাদেশে এমন অনেক পণ্য আছে (যেমন হাতে তৈরি অনেক ধরণের পণ্য) যার বাজার চাহিদা বিশ্বের অনেক দেশেই রয়েছে। কিš‘ উদ্যোক্তার অভাবে তৈরি করা হয় না। যদি উদ্যোক্তা তৈরির সর্তগুলো সহজ করা হয় এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের প্রশিক্ষিত করা হয় তবে দেশে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে। এসব পণ্য রপ্তানি করে যদি বিদেশের বাজার ধরা যায় তবে বাংলাদেশ যেমন অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি করবে তেমনি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে। দেশের বেকারত্ব কমবে।

গ্রীণ ওয়ার্ল্ড ইমপেক্স’র
স্বত্বাধিকারী মাহবুব রানা

আমরা যারা মাঝারি উদ্যোক্তা আছি তাদের ব্যবসা পরিচালনায় বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। যেগুলো সরকার চাইলেই সমাধান করতে পারেন। এরজন্য সরকারকে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করা দরকার। যেখানে একজন ব্যবসায়ী এক ছাদের নিচে সব সুযোগ পাবেন। এরমধ্যে থাকবে একটা ব্যবসা পরিচালনা করতে সরকারি বেসরকারি যত ধরণের প্রতিষ্ঠান আছে তাদের সবার রকম অনুমতি পত্র প্রদান। ব্যবসার জন্য ব্যাংক ঋণের ব্যব¯’াসহ সব রকম পরামর্শ যেন উদ্যোক্তা পায় এমন ব্যবসা থাকা দরকার। বর্তমানে একজন ব্যবসায়ীর নামে ঋণের টাকা বরাদ্দ হওয়ার পরও সে টাকা পায় না বিভিন্ন রকম কঠিন সর্তের কারণে। আবার এখন ব্যাংক ঋণ এক ডিজিট থেকে দুই ডিজিটে চলে গেছে। তা প্রায় ১৩ শতাংশ সুদে আমাদের ব্যাংক ঋণ নিতে হয়। এটি উদ্যোক্তা তৈরির এবং আমাদের ব্যবসায়ী বর্তমানে প্রধান সমস্যা বলা চলে।
তিনি আরো বলেন, আমার যারা পণ্য আমদানি কিংবা রপ্তানি করি তাদেরকে অনেক বেশি সমস্যয় পড়তে হয়। এখন বাংলাদেশ থেকে প্রচুর মৌসুমী ফল রপ্তানি করে। কিš‘ এক্ষেত্রে বিশেষ করে বিমান ভাড়া দফায় দফায় বাড়ছে। এতে যারা মধ্যম মানের ব্যবসায়ী আছে তারা ঠিক কতটা দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে। বাংলাদেশ থেকে বাইএয়ার আমাদের পণ্য আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রচুর অর্থ নষ্ট হয়। এটি সরকারকে দেখা দরকার। যদি এ ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করা যায় তবে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্র অর্জন করতে পারবে।

তাবা রেস্টুরেন্ট এন্ড লাউঞ্জ’র
প্রতিষ্ঠাতা গুলশানা আলী

ব্যবসা ক্ষেত্রে নারীদের এগিয়ে যেতে হলে পরিবারের পাশাপাশি রাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবর্তিত মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য চালু ঋণ কার্যক্রমটা খুবই কঠিন। সরকারের সর্বো”চ মহল থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ে নতুন নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টির কথা বলা হলেও নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য সেরকম সহযোগিতা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে পাওয়া যায়না।। যার কারণে নারী উদ্যোক্তারা সহজে ব্যাংক ঋণ পায় না। উ”চহারে কর ও ভ্যাট দিতে হয়। বিশ্বব্যাপী জ্বালানীর মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনিয় কাঁচামালের মূল্য বেড়েছে। ইলেকট্রিক ও গ্যাসের মূল্য অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব পণ্যের দামে নিয়ন্ত্রণ আনা প্রয়োজন। পাশাপাশি দেশে মূল্যস্ফীতি ও মার্কিন ডলার সংকটের করাণে বর্তমানে আমরা যারা মধ্যম মানের ব্যবসায়ী আছি তাদের দূরদিন চলছে বলা চলে।

চাঁপাই এগ্রো’র চেয়ারম্যান
জেসমিন আখতার

প্রায় পাঁচ ধরণের কঠিন চ্যালেঞ্জে কারণে লোন নিতে পারে না নারী উদ্যোক্তারা।  উল্লেখ্য সমস্যাগুলো হলো, একজন সরকারি চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ীসহ তিনজনকে গ্যারান্টর করতে হয়। যা অনেক ক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তাগণ দিতে সক্ষম হয় না। এক বছরের পুরাতন ট্রেড লাইসেন্স দেখাতে হয়। ৬ মাসের বেশি লেনদেন করাসহ ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের নামে একটি একাউন্ট থাকতে হয়। কিছুু ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৩ বছরের ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে হয়। দুই বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠান হতে হবে। এমন জটিলতার কারণে নারী উদ্যোক্তারা ঋণ পায় না। যেকারণে নারীরা ফিছিয়ে পড়ছে। নারীদের উদ্যোক্তা হতে প্রথম চ্যালেঞ্জ এ ফান্ডিং। ফান্ডের অভাবে অনেক নারী এগিয়ে যেতে পারেন না। ব্যাংক ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে নারীরা অনেক বেশি অবহেলিত। পূর্বের লোন পরিশোধে কোনো সমস্যা না থাকা সত্বেও নারীরা সহজে লোন পায় না।

ওয়েভ ট্রেড এন্ড টেপ
মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ

উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য সরকার যেভাবে এগিয়ে এসেছেন একই সাথে ব্যাংকগুলোকেও তাদের নিয়মনীতি সীথিল করা দরকার। নতুন উদ্যোক্তা যত বেশি সৃষ্টি হবে দেশের অর্থনীতে সমৃদ্ধি লাভ করবে। উদ্যোক্তাদের জন্য ভ্যাট ও ট্যাক্স কমানো, ট্রেড লাইসেন্স ফি ও নবায়ন ফি কমানো দরকার। জামানত বিহীন ঋনপ্রকল্প প্রবর্তন করা দরকার। ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে নতুনদের অগ্রাধিকার দেয়া এবং সহজ সর্তে ঋণের ব্যব¯’া করা দরকার।
তিনি আরো বলেন, আমরা যারা গার্মেন্টস পণ্য নিয়ে কাজ করি তাদের ক্ষেত্রে সামান্য কিছু কাঁচামাল দেশের পাওয়া যায়। বাকি বেশিরভাগ পণ্যই বাইরের। আমদানি নির্ভর এসব পণ্যের খরচ অনেক বেশি পড়ে। এক্ষেত্রে আমাদের ব্যবসায়ীদের ব্যাংক ঋণের প্রয়োজন হয়। কিš‘ ব্যাংকগুলো নিয়মনীতি এতো কঠিন যে চাইলেই ঋণ পাওয়া যায় না। এসব পদ্ধতি ব্যসায়ীদের এগিয়ে যাওয়ায় প্রধান বাধা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *