নবযাত্রা ডেস্ক
রাজনৈতিক সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দলীয় জোট। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তারা এই পদক্ষেপ নেয়।
শুক্রবার রাতে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্পিকারের সভাপতিত্বে চলা বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার নেতৃত্বে সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।
বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬ নিয়ে আলোচনাকে ঘিরে। বিরোধী পক্ষের অভিযোগ, পূর্ব নির্ধারিত আলোচনা ও ঐকমত্য উপেক্ষা করে শেষ মুহূর্তে বিলটিতে সংশোধনী আনা হয়েছে, যা রাজনৈতিক বোঝাপড়ার পরিপন্থী।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ দাবি করেন, বিশেষ কমিটিতে আগেই অধিকাংশ অধ্যাদেশ অপরিবর্তিত অবস্থায় অনুমোদনের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু বিল পাসের আগে হঠাৎ করে পরিচালনা কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়, যা তাদের মতে অগ্রহণযোগ্য এবং দলীয় প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিত বহন করে।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী জানান, সংশোধনীটি সরকারের পক্ষ থেকে নয়, বরং একজন সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত প্রস্তাব হিসেবে এসেছে। তিনি বলেন, পর্ষদের নেতৃত্বে মন্ত্রী থাকার বিষয়টি অস্বাভাবিক নয় এবং এতে কোনো দলীয়করণের প্রশ্ন ওঠে না।
আইনমন্ত্রীও জানান, সংসদের নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো সদস্য সংশোধনী প্রস্তাব আনতে পারেন। পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ আরও পর্যালোচনা ও শক্তিশালী করার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি বলে ব্যাখ্যা দেন তিনি।
এদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে আস্থার সংকট তৈরি হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে উপস্থাপন না হওয়ায় তারা হতাশ। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা না করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
সরকারের আশ্বাসে আস্থা রাখতে না পেরে বিরোধী সদস্যরা অধিবেশন বর্জনের ঘোষণা দেন। এরপর তারা ওয়াকআউট করে সংসদ ত্যাগ করেন।
অধিবেশন চলাকালে স্পিকার বিরোধীদের সিদ্ধান্তকে তাদের নিজস্ব বিষয় বলে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো সমাধানের আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে সরকারপক্ষের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত জাদুঘরটি দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, বরং জাতির সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে।