জাতীয় সংসদে পাস শিল্পকলা একাডেমি সংশোধন: রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেল আবৃত্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাঙালি সংস্কৃতি ও শুদ্ধ ভাষা চর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ আবৃত্তি অবশেষে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেল। আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ চূড়ান্তভাবে পাস হয়েছে।

সংশোধিত এই অধ্যাদেশে শিল্পকলা একাডেমির বিভাগসমূহে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুনভাবে “আবৃত্তি, নৃত্য ও অন্যান্য পারফর্মিং আর্টস” নামে একটি বিভাগ যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে প্রথমবারের মতো আবৃত্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে আবৃত্তিশিল্পকে স্বতন্ত্র স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন শিল্পীরা। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্প রক্ষা কণ্ঠ’-সহ বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্কৃতিকর্মীরা এ দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করেন। এর অংশ হিসেবে গত ২৪ মার্চ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংস্কৃতি মন্ত্রীর কাছে এবং পরে ঢাকায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি আবৃত্তিকে শিল্পকলা একাডেমির স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রীর কাছে আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দেন। তার উদ্যোগ ও সংশ্লিষ্ট মহলের সক্রিয়তায় সংশোধনীটি সংসদে পাস হয়।

এ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, “আবৃত্তি মানুষের চিন্তাশীলতা ও নান্দনিক বোধকে সমৃদ্ধ করে। নজরুল, রবীন্দ্রনাথসহ আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতির সঙ্গে আবৃত্তি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আবৃত্তিকে বাদ দিয়ে আমাদের সংস্কৃতি পূর্ণতা পায় না।”

তিনি আরও বলেন, “মহান ভাষা আন্দোলনের উত্তরাধিকার বহনকারী রাষ্ট্রে আবৃত্তিকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া ছিল সময়ের দাবি। এই সিদ্ধান্ত নতুন প্রজন্মের মধ্যে শুদ্ধ ভাষা চর্চা ও নন্দনতত্ত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, আগে শিল্পকলা একাডেমির বিভাগ সংখ্যা ছিল ৬টি, যা এখন বাড়িয়ে ৯টি করা হয়েছে। পূর্বের ‘নৃত্য ও অন্যান্য পারফর্মিং আর্টস’ বিভাগটি পরিমার্জন করে সেখানে আবৃত্তি যুক্ত করা হয়েছে।

আইনটি পাস হওয়ার পর সারাদেশে আবৃত্তিশিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের মধ্যে আনন্দের সাড়া পড়েছে। ‘বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্প রক্ষা কণ্ঠ’সহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। একইসঙ্গে তারা সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং আন্দোলনে সমর্থন দেওয়া সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই আইনি স্বীকৃতির ফলে এখন থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আবৃত্তিশিল্পের মূল্যায়ন বাড়বে এবং এর বিকাশে প্রয়োজনীয় বাজেট ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিশ্চিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *