আন্দামান সাগরে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে মালয়েশিয়াগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ভাসমান অবস্থায় ৯ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড । উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ৬ জন বাংলাদেশি ও ৩ জন রোহিঙ্গা রয়েছেন। এ ঘটনায় বাঁশখালীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক মানুষ নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরবর্তীতে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্ত ৬ দালালকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
উদ্ধার ও নিখোঁজদের পরিচয়
উদ্ধার হওয়া ৯ জন হলেন—টেকনাফের মো. ইমরান, রাহেলা বেগম, হৃদয়, সোহান উদ্দিন, মো. আকবর, রফিকুল ইসলাম, তোফায়েল, সায়াদ আলম ও মো. হামিদ।
এ ঘটনায় বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব পুঁইছড়ি এলাকার ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তারা হলেন—মো. রুবেল (৩৩), মো. ওসমান (১৮), মো. বেলাল (২৫), আজিজ (২৮) ও জামাল উদ্দিন ওরফে মানিক (২৩)।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু বাঁশখালী নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় আড়াই শতাধিক যাত্রী ওই ট্রলারে ছিলেন। ফলে নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
উদ্ধারপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ এপ্রিল কক্সবাজারের ইনানী, টেকনাফের নোয়াখালী ও রাজারছড়া এবং বাঁশখালীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে যাত্রীদের ছোট নৌকায় করে গভীর সমুদ্রে থাকা একটি বড় ট্রলারে তোলা হয়।
পরবর্তীতে প্রায় আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করে। আট দিনের মাথায় এটি পৌঁছে যায় আন্দামান সাগর অঞ্চলে, যেখানে হঠাৎ বৈরী আবহাওয়ার কারণে ট্রলারটি ডুবে যায়।
দালাল চক্রের ভয়াবহ প্রতারণা
নিখোঁজ মানিকের বাবা মকছুদ আহমদ অভিযোগ করে বলেন, দালাল চক্র প্রথমে মালয়েশিয়ায় ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের টেকনাফে নিয়ে যায়। পরে থাইল্যান্ডে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়। এরপর আবার মালয়েশিয়ায় পাঠানোর নামেও টাকা নেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, পুঁইছড়ি এলাকার অন্তত ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং আরও অনেকে ট্রলারে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে পুরো এলাকায় চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
মামলা ও উদ্ধার অভিযান
এ ঘটনায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে টেকনাফ মডেল থানায়।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন জানান, গভীর সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ৯ জনকে টহল জাহাজে তুলে নিরাপদে আনা হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজদের পরিবারে চলছে শোক, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।