নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় শিশুদের সুরক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামীকাল রোববার সকাল ৯টা থেকে একযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ কার্যক্রম চালু হবে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, দ্রুত সময়ের মধ্যে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথম ধাপে দেশের ১৮ জেলার আওতাধীন ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এসব এলাকাকে হামের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও বিস্তৃত করা হবে।
এ কর্মসূচির আওতায় ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশু রয়েছে। যারা আগে টিকা নিয়েছে বা না নিয়েছে তারাও এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে ব্যাপক পরিসরে টিকাদান কার্যক্রম চালানো গেলে সংক্রমণ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২১ মে’র মধ্যে, অর্থাৎ ঈদুল আজহার আগেই প্রথম ধাপের কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
উদ্বোধনী দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা টিকাদান কার্যক্রমের সূচনা করবেন। অন্য কেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে জ্বর বা অসুস্থতায় ভুগছে এমন শিশুদের তাৎক্ষণিকভাবে টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের ভিটামিন এ’ ক্যাপসুল সরবরাহ করা হবে, যা জটিলতা কমাতে সহায়তা করে।
এদিকে টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ (কোল্ড চেইন), বিতরণ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণসহ সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সফল বাস্তবায়নের জন্য অভিভাবক, গণমাধ্যম ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গুজবে কান না দিয়ে নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের টিকা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।