নবযাত্রা প্রতিবেদন
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নে এক ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে চারটি অসচ্ছল পরিবারের সন্তানদের বিয়ের ব্যবস্থা করে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোছাইন। তার নিজস্ব অর্থায়নে আয়োজিত এ গণবিবাহ অনুষ্ঠান স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং মানবিক সহমর্মিতার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে শিলখালী ইউনিয়নের পেঠান মাতবরপাড়ায় চেয়ারম্যানের নিজ বাসভবনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে চারজন বর ও চারজন কনের বিবাহ সম্পন্ন হয়। পুরো আয়োজনটি ছিল সরল, সাদামাটা ও আবেগঘন। যেখানে আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে মানবিক দিকটিই বেশি গুরুত্ব পায়।
অনুষ্ঠানস্থলে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। নবদম্পতিদের জন্য দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় এবং অতিথিরা তাদের সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য শুভকামনা জানান।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোকে সহায়তা করার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিয়ের যাবতীয় খরচ, প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও আয়োজনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব ব্যক্তিগতভাবে বহন করেন চেয়ারম্যান কামাল হোছাইন।
এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন চেয়ারম্যান নিজেই। এতে বক্তব্য রাখেন সমাজসেবক বেলাল উদ্দিন আহমদ, বশির আহমদ, ফরিদুল আলম সিকদার, অধ্যাপক সালাহ উদ্দিন, মাওলানা মনজুর আলম, পেকুয়া প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি আবদুল্লাহ আনসারী ও নেজাম উদ্দিনসহ স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা। বক্তারা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও অনুকরণীয় বলে উল্লেখ করেন এবং সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে চেয়ারম্যান কামাল হোছাইন বলেন, “মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই এই আয়োজন করেছি। জীবনে কখনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না, ভবিষ্যতেও থাকব না ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন, “অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। সমাজে অনেক পরিবার আছে যারা অর্থের অভাবে সন্তানদের বিয়ে দিতে পারে না। তাদের কষ্ট লাঘবের জন্যই এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে গণবিবাহ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, বরং সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে দরিদ্র পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ কমে এবং সামাজিক বৈষম্য হ্রাসে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের গণবিবাহ আয়োজন বৃদ্ধি পেলে অসচ্ছল মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি সমাজে সহমর্মিতা, দানশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে।
মানবিক এই আয়োজনের মাধ্যমে চারটি পরিবারের নতুন জীবনের সূচনা যেমন নিশ্চিত হয়েছে, তেমনি সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল বার্তা।